বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই চলমান সংকটের একমাত্র কার্যকর ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সমস্যাটির শুরু যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নতুন প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রযুক্তির সংস্পর্শে বেড়ে উঠছে এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম, যা কারও জন্যই ভালো বার্তা নয়। শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজ দেশে ফেরানো নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে ইভো ফ্রেইজেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ‘নাটকীয় হ্রাস’-এর বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো প্রাপ্য গুরুত্ব পাচ্ছে না, যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত এক বছরে বিষয়টি সামনে আনতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত রোজায় জাতিসংঘ মহাসচিবের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এই মানবিক সংকট নতুন করে নজর কাড়ে।
মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বৈঠকে ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী মূল ভূখণ্ডে চলে এসে স্থানীয় জনসংখ্যার সঙ্গে মিশে গেছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ইভো ফ্রেইজেন জানান, ইউএনএইচসিআরের নতুন প্রধান বারহাম সালিহ নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ সফরে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্রান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছেন।
আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করাই সরকারের লক্ষ্য, যাতে প্রথমবার ভোট দেওয়া তরুণ ও নতুন ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি আনন্দদায়ক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়