ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, Qatar, Saudi Arabia এবং United Arab Emirates-এর অনুরোধে তিনি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছে। তবে আলোচনায় ব্যর্থতা এলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, চুক্তি সফল না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN জানিয়েছে, গত শনিবার (১৬ মে) জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং সম্ভাব্য মার্কিন প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের পরদিনই ট্রাম্প তেহরানকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনকি ‘কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’ বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ায়। এর প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়ে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে একাধিক দেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
এদিকে মার্কিন-ইরান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে Pakistan। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi Iran সফর করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক চলমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক উদ্যোগও পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত এড়াতে এখন কূটনৈতিক আলোচনার সফলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়