1. adm3ijmpg@example.com : adm3ijmpg :
  2. adm53gqu5@example.com : adm53gqu5 :
  3. admg4o2lv@example.com : admg4o2lv :
  4. admiztuem@example.com : admiztuem :
  5. dsdc.mostafiz@gmail.com : mostafiz rahman : mostafiz rahman
  6. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  7. info@www.media71bd.com : TV :
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন

ডলার দুর্বল ও তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি

মিডিয়া ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবারও কিছুটা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে একই সময়ে মার্কিন বন্ডের উচ্চ মুনাফা বা ইয়িল্ড স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৮ মে) দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেলেও পরে বাজারে ঘুরে দাঁড়ায়। স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৭ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ দশমিক ৪০ ডলারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়াই স্বর্ণের বাজারে নতুন গতি তৈরি করেছে। ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে শুরু করে।

বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলার সূচক দিনের একপর্যায়ে নিম্নমুখী অবস্থানে চলে যায়। এ পরিস্থিতিকে স্বর্ণবাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেন, ডলারের দুর্বলতা সাধারণত স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়াও বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার দিকে নজর রাখছেন। এর ফলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও বন্ড বাজারের উচ্চ মুনাফা স্বর্ণের দামের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের পরিবর্তে বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। কারণ বন্ড থেকে নির্দিষ্ট হারে আয় পাওয়া যায়, যেখানে স্বর্ণ কোনো সুদ বা মুনাফা দেয় না। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা কমে যায়।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও দেখা গেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। এই খবরে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে মার্কিন ডব্লিউটিআই এবং ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলার পর্যন্ত কমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ তেলের মূল্য বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক মূল্যহ্রাসের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে গত কয়েক মাস ধরে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট বড় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও জোরালো হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত সুদের হার বাড়িয়ে থাকে বা দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখে। এতে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কারণ উচ্চ সুদের পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন সম্পদ থেকে সরে গিয়ে বন্ড বা অন্যান্য সুদভিত্তিক সম্পদে ঝুঁকে পড়েন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজারে মিশ্র প্রভাব দেখা যাচ্ছে। একদিকে ডলারের দুর্বলতা এবং তেলের দাম কমে যাওয়া স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে, অন্যদিকে উচ্চ বন্ড ইয়িল্ড বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে সুদের হার কমানোর বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে স্বর্ণের বাজারে আরও বড় উত্থান দেখা যেতে পারে।

এদিকে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য, শ্রমবাজার পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যানের দিকে নজর রাখছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী দিনে ফেডের সুদের হার নীতি নির্ধারিত হতে পারে। আর সেই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলবে স্বর্ণ, ডলার এবং বৈশ্বিক পণ্যের বাজারে।

বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্বও তত বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ এখনও বিনিয়োগকারীদের অন্যতম আস্থার সম্পদ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!