
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. শফি (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাঁ পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে যায়।
বুধবার (২৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত শফি ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী এলাকার বাসিন্দা এবং কালু মিয়ার ছেলে। এলাকাটি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শফি সীমান্তঘেঁষা একটি বাগানে কলার ছড়া কাটতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে তার সঙ্গে থাকা লোকজন আতঙ্কে সরে যান। পরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, রেজু আমতলীর ৪১ নম্বর সীমান্ত পিলারের পশ্চিমে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। গত ২৪ মে একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। পরে ৯ জুন আরও একজন কৃষক প্রাণ হারান। এছাড়া ২ জুন পরিত্যক্ত মর্টারশেল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এক ১২ বছর বয়সী কিশোর নিহত হয়।
বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।