
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সমাধানে কূটনীতিই একমাত্র পথ বলে জানিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইরানের পক্ষ থেকে এ অবস্থান জানানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তার ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হলেও তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পাঠায় তেহরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানো ও ইরানের ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং পরবর্তী সময়ে পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়।
তবে শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এরপর রোববার তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করতে পারেন। অর্থাৎ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি বলেন, যুদ্ধ এখন একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক’ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান বাণিজ্য করতে না পারলে আঞ্চলিক জলপথ ব্যবহার করে অন্যদেরও বাণিজ্য করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় তেহরান প্রস্তুত। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, চাপ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় যাবে না ইরান।
চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এ অঞ্চলের পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যেও পড়ছে।