
গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আলে সানি।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, গাজা চুক্তির আওতায় ইসরায়েল যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। বরং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘দীর্ঘ তালিকার’ বিভিন্ন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, চুক্তির বিভিন্ন শর্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েলকে বলা হলে তারা তা অস্বীকার করে এবং চুক্তির প্রত্যাশার বিপরীত পথে এগিয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পরিবর্তে উপত্যকার বড় একটি অংশে তাদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে প্রাণহানিও চলছে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা প্রবেশের পরিমাণও চুক্তিতে নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম বলে দাবি করেন তিনি।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পরিস্থিতির কারণে শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো চুক্তির শর্তগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এক বৈঠকে শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আলে সানি গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কাতারের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলকে চুক্তির অধীনে দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং গাজায় চলমান মানবিক সংকটের অবসানে পদক্ষেপ নিতে হবে।
গাজা যুদ্ধবিরতি ও সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোতে কাতার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ। ফলে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ মন্তব্য শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের ভূমিকা ও চুক্তির অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।