জাতীয় সংসদ বুধবার (৮ এপ্রিল) অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বিল আকারে পাস করে। এতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকল। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
একই দিনে আরও ছয়টি বিল পাস হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা বিলুপ্ত হলো।
সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ ধারা আপডেট করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী:
বিলে অন্তর্ভুক্ত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা এবং দায় নির্ধারণ করা হবে। এ সময় ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসক পতনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে উত্থাপন করেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। কোনো বিশেষ কমিটির সংশোধনী না থাকায় বিলটি সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ গণ্য হবে।
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটানো ছাত্র-জনতার জুলাই-অগাস্ট ২০২৪ আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দলের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পাস হওয়া নতুন বিল সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিয়েছে, যা সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষমতা নিশ্চিত করে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ, আর আইনজীবীরা মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইন প্রয়োগ করবেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে