পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলোতে আবারও প্রভাব বিস্তার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মোট ৩৮ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন, যার বড় অংশই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী।
অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি বলে জানা গেছে।
রাজধানী কলকাতা-র গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তৃণমূলের মুসলিম নেতারা নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। কসবা আসনে আহমেদ জাভেদ খান পুনরায় জয়ী হয়েছেন। কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিম প্রায় ৫৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। মেটিয়াব্রুজে আব্দুল খালেক মোল্লা প্রায় ৮৭ হাজার ভোটে জয়লাভ করেন।
মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন। জলঙ্গীতে বাবর আলি, হরিহরপাড়ায় নিয়ামত সেখ এবং শামশেরগঞ্জে মুহাম্মদ নূর আলম জয়ী হয়েছেন। তবে রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্রে এজেইউপি প্রার্থী হুমায়ুন কবীর জয় লাভ করেছেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা, হাড়োয়া ও বসিরহাট উত্তর আসনে তৃণমূলের প্রার্থীরা জয় নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট-এর নওসাদ সিদ্দিকী দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আলোচনায় এসেছেন।
এছাড়া কংগ্রেসের মাহাতাব শেখ (ফারাক্কা) ও জুলফিকার আলি (রানীনগর) জয় পেয়েছেন। বাম শিবিরের সিপিআইএম থেকে একমাত্র মুসলিম প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান রানা ডোমকল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন আসনেও তৃণমূলের প্রার্থীদের জয় অব্যাহত রয়েছে। চোপড়া থেকে হামিদুল রহমান, গোয়ালপোখর থেকে গোলাম রব্বানী, সুজাপুর থেকে সাবিনা ইয়াসমিন, লালগোলা থেকে ড. আব্দুল আজিজ এবং বীরভূমের হাসন কেন্দ্র থেকে কাজল শেখ জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে তৃণমূল কংগ্রেস এখনো দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে এবং মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে তাদের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।