দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চট্টগ্রাম-ঢাকা জ্বালানি তেল পাইপলাইনের নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসের শেষ নাগাদ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পুরোদমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। বৈঠকে দেশের জ্বালানি খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, মেগা প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এতে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু-সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
এ ছাড়া বৈঠকে সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম, নূরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, মো. আবুল হাসনাত এবং মোহাম্মদ আবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, আধুনিক জ্বালানি নীতিমালা এবং বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় নতুন ফিলিং স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালাকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিক করার কাজ চলছে। পাশাপাশি গ্যাস খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করতে পুরোনো ‘গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি ২০১৪’ হালনাগাদ করে নতুন ‘গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং সংকট উত্তরণে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেন। জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের সদস্যদেরও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সুপারিশ লিখিত আকারে কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
বৈঠকের শেষে আগামী সংসদ অধিবেশনে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষ রিপোর্ট উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়-এর সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়