আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে গরু পরিবহন ও জবাই সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কারণে খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Federal।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে গরু জবাই, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
গরু জবাইয়ের আগে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কেবল তখনই গরু জবাই করা যাবে যখন সেটির বয়স ১৪ বছরের বেশি, অথবা সেটি অসুস্থ, অক্ষম কিংবা প্রজনন ও কাজের জন্য অনুপযুক্ত বলে প্রমাণিত হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমসহ বিভিন্ন জেলার ক্ষুদ্র খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। খামারিদের মতে, ঈদের মৌসুমে তারা সাধারণত দুধ দেওয়া বন্ধ করা বা বয়স্ক গরু বিক্রি করে নতুন পশু কেনেন, কিন্তু নতুন নিয়মে ক্রেতা কমে গেছে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অনেক খামারি জানিয়েছেন, প্রতিটি গরু পালনে দৈনিক খরচ ২০০ থেকে ৩০০ রুপি পর্যন্ত হয়। অথচ এখন বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের আর্থিক চাপ বাড়ছে। কেউ কেউ আগাম টাকা ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতিতেও পড়েছেন।
ঋণ নিয়ে গবাদিপশু ব্যবসা করা অনেক খামারি জানিয়েছেন, ঈদের বিক্রির ওপর নির্ভর করেই তাদের অর্থনৈতিক চক্র চলে। বাজার স্থবির হয়ে পড়ায় তারা এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং সরকারের কাছে সহায়তার দাবি তুলেছেন।
খামারিদের অভিযোগ, নতুন বিধিনিষেধের কারণে মৌসুমি গরুর বাজার প্রায় থমকে গেছে। ক্রেতারা আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক ঝুঁকির কারণে পশু কেনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।
এদিকে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এই নীতি বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও খামারিদের জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনা না করেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে গরু পরিবহনের সময় বয়স বা জন্মসনদ যাচাইয়ের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন নিয়মের কারণে ঈদের আগে পশুর বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে এবং ক্ষুদ্র খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।