বাংলাদেশে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে ব্রাজিলকে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেন, ব্রাজিলের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।
বুধবার (২০ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিখাতে বিদ্যমান বাণিজ্য সম্ভাবনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ব্রাজিল মিশনের উপপ্রধান লিওনার্দো জানুজ্জি।
আলোচনায় ব্রাজিল থেকে মাংস আমদানির বিষয়ও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আধুনিক সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
মন্ত্রী আরও জানান, ব্রাজিল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সার্টিফিকেশন নিয়েও মতবিনিময় হয়। প্রাণিস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উদ্ভিদস্বাস্থ্যসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে উভয় দেশ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশে আধুনিক মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় খামারিরা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের সম্ভাবনাও বাড়বে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভোক্তাদের জন্য মানসম্মত পণ্য সরবরাহ সহজ হবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়