নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের সগুনা গোপালপুর গ্রামের গৃহবধূ মোছা. মাহফুজা খাতুনকে ঘিরে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারের ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির তালিকায় নিজেকে দরিদ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, মাহফুজা খাতুনের স্বামী মো. নজরুল ইসলাম একই ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) হিসেবে কর্মরত। পরিবারের রয়েছে পাকা বাড়ি এবং স্বামীর আয় থেকে তারা স্বচ্ছল জীবনযাপন করেন। তবে এসব তথ্য গোপন রেখে তিনি ভিডব্লিউবি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল উত্তোলন করে আসছেন।
স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত নারীরা অভিযোগ করে বলেন, গত বছর এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে কয়েকশ নারী আবেদন করলেও খুব অল্পসংখ্যক সুযোগ পেয়েছেন। অথচ সচ্ছল হয়েও মাহফুজা খাতুন প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় নাম তুলেছেন, যা প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত হতদরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী সচ্ছল পরিবারের কেউ এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। তথ্য গোপন করে কেউ সুবিধা নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহফুজা খাতুনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্বামী নজরুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেন। তিনি দাবি করেন, স্ত্রী তাকে না জানিয়েই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং কিছু সুবিধাও নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি স্ত্রীকে এ ধরনের সুবিধা না নিতে বলেছেন বলেও জানান।
তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলালুজ্জামান বলেন, কাগজে-কলমে যাচাই কমিটি থাকলেও বাস্তবে ইউপি সদস্যদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অযোগ্যদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এমন অনিয়ম রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়