মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবানন-এ রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির সরকার ইসরায়েল-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শক্তিশালী সশস্ত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ তীব্র বিরোধিতা করছে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে হিজবুল্লাহ ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবানন সরকার আলোচনায় শক্ত অবস্থানে নেই এবং এ ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হতে পারে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে লেবানন কাঙ্ক্ষিত সুবিধা আদায় করতে পারবে না।
এই ইস্যুতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বিরোধ দিন দিন তীব্র হচ্ছে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনটি বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজ করছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
হিজবুল্লাহর এক নেতা আলি আম্মার সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ক্ষতিগ্রস্তদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তার এই বক্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে সরকার কূটনৈতিক পথ বেছে নিতে চাইছে, অন্যদিকে হিজবুল্লাহ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকলে দেশটি আরও বড় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে, ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে লেবাননে যে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়