
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির অনবদ্য নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে থাকল আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে ছিল আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ গড়লেও সেগুলোকে গোলে রূপ দিতে পারেননি মেসিরা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ঘিরে একটি ফাউলের ঘটনায় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও রেফারির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। পুরো প্রথমার্ধে মোট ১৯টি ফাউল হয়। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ১২টি এবং ইংল্যান্ড ৭টি ফাউল করে। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংলিশদের এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর একাধিক পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৬৪তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকো গঞ্জালেজ। এরপর হাইড্রেশন বিরতির পর লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা ও জুলিয়ানো সিমিওনের জায়গায় মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রদ্রিগো দি পল এবং গনসালো মন্তিয়েল। ইংল্যান্ডও অ্যান্থনি গর্ডনের বদলে এজরি কনসাকে মাঠে নামায়।
শেষ ২০ মিনিটে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই।
অবশেষে ৮৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা এবং ম্যাচে নতুন প্রাণ ফিরে আসে।
এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আসে ম্যাচের নিষ্পত্তি। লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ।
শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও আর্জেন্টিনার শক্ত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি ইংল্যান্ড। ফলে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল মেসির দল।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। এখন শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ফাইনালে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।