1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন

ইসলামে যে সাতটি কবিরা গোনাহ থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন মহানবী (সা.)

ইসলামিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

মানুষের ইহকাল ও পরকালের সফলতার জন্য ইসলাম কিছু গোনাহ থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে এমন কিছু পাপ রয়েছে, যেগুলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘সর্বনাশী’ বা ধ্বংসাত্মক গোনাহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক (সর্বনাশী) গোনাহ থেকে বেঁচে থাকো।” সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সেগুলো কী?’ তিনি বলেন—

১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা
২. জাদু করা
৩. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা
৪. সুদ ভক্ষণ করা
৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা
৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা
৭. পবিত্র-চরিত্রবান মুমিন নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
(রিয়াদুস সালেহিন: ১৮০২)

১. আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা

ইসলামে সবচেয়ে বড় গোনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করা ক্ষমা করবেন না। এর বাইরে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।”
(সুরা আন-নিসা: ৪৮)

তওবা ছাড়া শিরকের গোনাহ ক্ষমা করা হবে না বলে কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

২. জাদু করা

জাদুবিদ্যা শিক্ষা ও তা প্রয়োগ করা ইসলামে হারাম। কোরআনে হারুত ও মারুত (আ.)-এর ঘটনার মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। তারা মানুষকে বলতেন—

“আমরা তো কেবল পরীক্ষা; সুতরাং তোমরা কুফরি করো না।”
(সুরা আল-বাকারা: ১০২)

৩. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা

কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা ভয়াবহ অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“যাকে হত্যা করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করো না।”
(সুরা বনি ইসরাইল: ৩৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, তিনটি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো মুসলিমকে হত্যা বৈধ নয়।
(সহিহ বোখারি: ৬৮৭৮)

৪. সুদ ভক্ষণ করা

ইসলামে সুদ সম্পূর্ণরূপে হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“হে মুমিনগণ! তোমরা দ্বিগুণের ওপর দ্বিগুণ সুদ ভক্ষণ করো না এবং আল্লাহকে ভয় করো।”
(সুরা আলে ইমরান: ১৩০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।
(সহিহ বোখারি: ৫৯৪৫)

৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা

এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা অত্যন্ত গুরুতর পাপ। কোরআনে বলা হয়েছে—

“যারা অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ গ্রাস করে, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে।”
(সুরা আন-নিসা: ১০)

৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ চলাকালে শত্রুর ভয়ে রণক্ষেত্র ত্যাগ করা কবিরা গোনাহ। তবে যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবে অবস্থান পরিবর্তন বা পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে সরে যাওয়া এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

৭. পবিত্র-চরিত্রবান মুমিন নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া

কোনো নির্দোষ ও পবিত্র চরিত্রের মুমিন নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনা গুরুতর অপরাধ। আল্লাহ তাআলা বলেন—

“যারা সতী-সাধ্বী, সরল-সোজা মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।”
(সুরা আন-নুর: ২৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) যে সাতটি সর্বনাশী গোনাহ থেকে সতর্ক করেছেন, সেগুলো ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ ক্ষতির কারণ। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো এসব কবিরা গোনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা, আন্তরিক তওবা করা এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page