
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পেলে মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি খাত ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই এ ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। তবে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার মুখে ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কর্মীদের লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পরিদর্শন করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তেলের বাজার স্বাভাবিক না হলে এবং কূটনৈতিক সমাধান না এলে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগোতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে দ্রুত হামলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প আপাতত ইসরায়েলকে অপেক্ষা করতে বলেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মার্কিন সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের সময় নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন।