
ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১ হাজার ৩১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫৩ জন পুলিশ সদস্য।
রোববার (২৬ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর আগে গত সপ্তাহে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করে কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবারের বিক্ষোভে ৭৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ২৪টি দোকানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। তবে সংঘর্ষে কতজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও রাজধানী প্যারিসসহ মার্সেই ও বোর্দো শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা কম ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পুলিশের মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। মিছিলের শেষ গন্তব্য পোর্ত দ্য ভাঁসেন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়েও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শহরের বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি গয়নার দোকানের জানালা ভাঙচুর এবং একটি সুপারমার্কেটে লুটপাটের ঘটনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আটলান্টিক উপকূলীয় শহর বোর্দোর বিখ্যাত প্লাস দ্য লা বুর্স চত্বরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় চত্বর ঢেকে যাওয়ার সময় মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে ফ্রান্সে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।