
অবৈধ নাগরিকত্ব, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। দেশজুড়ে পরিচালিত ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের আটক করা হয়।
রোববার (৭ জুন) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এসব প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৪ হাজার ৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের দায়ে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ১২৬ জন রয়েছেন। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও সরকারি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের সময় আরও ১ হাজার ১৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭০ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ২৮ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ২৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে বসবাসরত ১৬ জনকেও আটক করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৭ মে একই ধরনের অভিযানে ৯ হাজার ৫৭৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১১ হাজার ২৭২ জন প্রবাসীকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। এদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারী।
এছাড়া বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৪ হাজার ৪৯৫ জনকে নিজ নিজ দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য। আরও ৮৫০ জনকে চূড়ান্ত ভ্রমণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র : গালফ নিউজ