দেশের ছয়টি বিভাগে ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিশু হাসপাতাল ভবন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পর দ্রুত সেগুলো চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১০ মে) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সচিবকে হাসপাতালগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। পাশাপাশি নির্দেশনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আগামী ২ জুন ২০২৬-এর মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। হাসপাতালগুলো রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় অবস্থিত।
শুধু শিশু হাসপাতাল নয়, বৈঠকে দেশের অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে আংশিক চালু থাকা ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশও দেওয়া হয়।
এছাড়া রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ অন্যান্য অচল স্বাস্থ্য প্রকল্প দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে নীলফামারীতে প্রস্তাবিত ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নীলফামারী সদর উপজেলায় নির্মিতব্য এই হাসপাতালটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, রংপুর বিভাগের প্রায় দুই কোটি মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উত্তরাঞ্চলের সীমিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও উচ্চ দারিদ্র্যের বিষয় বিবেচনায় এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়