
নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বাংলাদেশে পুনর্গঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সচিবালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। তার দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতি পরোক্ষভাবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত ও এনসিপির কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আবারও মাঠে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কয়েক দিনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, দলটির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। জনগণ জামায়াতকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিএনপিকে রাজপথ বা রাজনীতি থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যাসিবাদের পুনরাগমন ঘটলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন রাশেদ খান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন তিনি। রাশেদ খান জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপি ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যথাসময়ে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানান রাশেদ খান।
জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য নির্বাচনী অবস্থান নিয়ে রাশেদ খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় দল দুটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে না। তিনি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, ঝিনাইদহ পৌর বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান শেখর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।