দেশের সব জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে হাম ও সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (১৯ মে) এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এবং হামে আক্রান্ত হয়ে সাড়ে ৪০০-র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভ্যাকসিন কাভারেজ কিছুটা বাড়লেও রোগীর চাপ এখনো কমেনি।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আগে যথাযথ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে যাতে সংক্রমণ ছড়ানো কমে।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রতিদিনের ভর্তি রোগীর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখায় পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত শয্যার একটি অংশ হাম রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করতে। বিএমডিসি আইনের আওতায় সাধারণত ১০ শতাংশ শয্যা দরিদ্র রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকে, যার অর্ধেক এখন থেকে এই রোগীদের জন্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও তথ্য ডেস্কে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীরা সহজে সেবা পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের এই বিস্তার শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর কারণে হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে এবং আলাদা ওয়ার্ড ব্যবস্থা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়