
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ঢাকার মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী।
ওসি জানান, গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে বগুড়ায় আনা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে হবিগঞ্জ ও সিলেটে এনসিপির পথসভায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গাজী সালাউদ্দিন তানভীর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই পোস্টে মানহানিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য ছিল, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এর আগেই পোস্টটির স্ক্রিনশট বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এইচ.এস. মাফতুন আহমেদ খান রুবেল গত ২ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই তিনি বগুড়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থানকালে ফেসবুকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ওই পোস্টটি দেখতে পান। তার অভিযোগ, পোস্টটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মানহানি এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বগুড়া জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা শহরের সাতমাথা এলাকায় তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং তাকে বগুড়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণার কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে জেলা প্রশাসক নিয়োগে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবইয়ের কাগজ সরবরাহে কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছিল এনসিপি। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাকে পুনরায় সাংগঠনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ২৫ মার্চ বগুড়ার মহাস্থান জাদুঘরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর এবং জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও তিনি আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনায় জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান শিবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।