1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বোর্ডিং পাস নিয়েও মালয়েশিয়াগামী বিমানে ওঠেননি ৬১ যাত্রী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ৬৬ জন ২০২৭ সালের এপ্রিলে মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা ডিআইজিসহ পুলিশের ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর ঝালকাঠিতে খাদে বাস, সুপারভাইজার নিহত বরিশালে এমডিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত লিটু গ্রেপ্তার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা গুলিস্তানে হামলার অভিযোগে জামায়াতের বিক্ষোভ, চাঁদাবাজি-দখলদারিত্বের প্রতিবাদ বাংলাদেশে ‘সনি আলফা ওয়েডিং স্টুডিও অ্যালায়েন্স’ চালু জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ইসলামের দৃষ্টিতে ভূকম্প: সতর্কবার্তা, শিক্ষা ও করণীয়

ইসলামিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

ভূকম্পকে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরের শিলাস্তরের চ্যুতি বা স্থানান্তরের ফলে সৃষ্ট একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য সতর্কবার্তা ও আত্মসমালোচনার আহ্বান।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি ভয় দেখানোর জন্যই নিদর্শন পাঠাই।” (সুরা বনি ইসরাইল: ৫৯)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

“অবশ্যই আমি গুরুতর শাস্তির আগে লঘু শাস্তি দেব, যেন তারা ফিরে আসে।” (সুরা সাজদা: ২১)

ভূকম্প আল্লাহর সতর্কবার্তা

ইসলামী শিক্ষায় ভূকম্প মানুষকে তার ভুল-ত্রুটি, গুনাহ ও অবাধ্যতার বিষয়ে সচেতন হওয়ার সুযোগ করে দেয়। এ সময় আল্লাহর কাছে তওবা করা, বেশি বেশি দোয়া করা এবং আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব নিঝুম রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা গভীর ঘুমে বিভোর হয়ে থাকবে?” (সুরা আরাফ: ৯৭)

অন্য আয়াতে এসেছে,

“যে বিপদাপদই তোমাদের ওপর আসুক, তা তোমাদের হাতের কামাই। আল্লাহ তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।” (সুরা শুরা: ৩০)

কেয়ামতের অন্যতম আলামত

হাদিসে ভূকম্পকে কেয়ামতের পূর্ববর্তী অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যে পর্যন্ত ইলম তুলে না নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভূকম্প না হবে, সময় সংকুচিত হয়ে না আসবে, ফিতনা প্রকাশ না পাবে, খুন-খারাবি বৃদ্ধি না পাবে এবং সম্পদ উপচে না পড়বে—ততক্ষণ কেয়ামত হবে না।” (সহিহ বোখারি: ১০৩৬)

আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের ভয়াবহ ভূকম্প সম্পর্কে বলেন,

“হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিশ্চয় কেয়ামত দিবসের ভূকম্পন হবে অত্যন্ত ভয়াবহ…” (সুরা হজ: ১-২)

পাপ ও বিপর্যয়ের সম্পর্ক

কুরআনে মানুষের অন্যায় কাজের কারণে পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের ফলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের কিছু ফল আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে।” (সুরা রুম: ৪১)

এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ যুগের নানা অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এসব ছড়িয়ে পড়লে মানুষ ভূমিধস, ভূকম্প ও অন্যান্য শাস্তির মুখোমুখি হবে। (জামে তিরমিজি: ২২১১)

ভূকম্পের সময় ইসলামের নির্দেশিত সাতটি করণীয়

১. নামাজ আদায়

যদিও ভূকম্পের জন্য নির্দিষ্ট নামাজ সম্পর্কে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবুও অনেক সাহাবি ও আলেম ভূকম্পের সময় নফল নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ভূকম্পের সময় নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে বাইহাকি: ৩/৩৪৩)

২. তওবা ও আত্মসমালোচনা

ভূকম্পের সময় নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং জীবন সংশোধনের সংকল্প করা উচিত।

কুফায় এক ভূকম্পের সময় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন,

“হে লোকসকল! তোমাদের রব তোমাদের তাঁর সন্তুষ্টির দিকে ফিরিয়ে আনতে চান।” (তাফসির ইবনে কাসির)

৩. দোয়া ও ইস্তিগফার

এ ধরনের বিপদের সময় বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা সুন্নত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

“যখন তোমরা এমন নিদর্শন দেখবে, তখন আল্লাহর জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারের দিকে অগ্রসর হবে।” (সহিহ বোখারি: ১০০০)

৪. জিকির ও তাকবির

ভূকম্পের সময় আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকা, তাকবির দেওয়া এবং সংক্ষিপ্ত দোয়া পড়া উত্তম।

প্রচলিত দোয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • ইয়া হাইয়্যু, ইয়া কাইয়্যুম, বি রহমাতিকা আস্তাগিস।
  • আল্লাহু আল্লাহু রব্বি, লা উশরিকা বিহি শাইআ।
  • আউযু বি ওয়াজহিকা (হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই।)

৫. দান-সদকা

ভূকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) ভূকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সদকা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৮৪১৪)

৬. মানবতার পাশে দাঁড়ানো

দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের জীবন রক্ষা, ঋণগ্রস্তদের সহায়তা, বন্দিমুক্তি, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক সহযোগিতা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভূকম্পের মতো দুর্যোগে মানবসেবাকে ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৭. জনগণকে সতর্ক করা

দুর্যোগের সময় মানুষকে সচেতন করা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে উৎসাহিত করা ইসলামী দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে মদিনায় ভূকম্প হলে তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন এবং তাদের সতর্ক করেছিলেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা; সুনানে বাইহাকি)

ইসলামী দৃষ্টিতে ভূকম্প কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মানুষের জন্য আত্মসমালোচনা, তওবা, আল্লাহর স্মরণ এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। একই সঙ্গে ইসলাম মানুষকে বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুসরণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page