
মাদকের বিস্তার রোধে চুয়াডাঙ্গায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি বলেছেন, মাদক কারবারি ও আসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে তারা ফিরে না এলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”
শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকন্দবাড়িয়া এবং দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে পৃথক দুটি মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দর্শনা থানা পুলিশের উদ্যোগে আকন্দবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘মাদককে না বলুন, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ুন’ প্রতিপাদ্যে একটি মাদকবিরোধী ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ মাদক। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সমস্যা নির্মূল সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক আন্দোলন এবং যুবসমাজের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ।
তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সমাজ যদি মাদক কারবারিদের বয়কট করে, তাহলে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারি ও আসক্তদের এখনই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে দর্শনা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে সচেতন যুবসমাজের উদ্যোগে মাদকবিরোধী যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে পুলিশ সুপার বলেন, “মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। এখনই মাদক কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে। এখন মাদক কারবারিদের সতর্ক করছি, এরপর অভিযান শুরু হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস নেই।”
তিনি আরও বলেন, যারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, প্রয়োজন হলে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।
সমাবেশে উপস্থিত জনতার সামনে ফকিরপাড়া গ্রামের আশরাফুল নামে এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকার করেন। পুলিশ সুপার তাকে সৎ পথে চলার আহ্বান জানিয়ে সমাজের মূল ধারায় ফিরে আইন মেনে জীবনযাপনের পরামর্শ দেন।
দুই সমাবেশেই বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, অভিভাবক, শিক্ষক, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতামূলক বক্তব্য ও প্রচারণা পরিচালনা করা হয়।