
টাইফুন বাভির প্রভাবে চীনের বিভিন্ন প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় স্কুল, নির্মাণ প্রকল্প ও পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিয়াওনিং প্রদেশের রাজধানী শেনইয়াং। ১৩ জুলাই সকালে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হওয়ায় কয়েকটি বাস রুট ও মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কিন্ডারগার্টেন থেকে জুনিয়র হাইস্কুল পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজ ও খোলা স্থানের বিভিন্ন কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়েছে। শহরের ৯৪টি পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে এবং সম্ভব হলে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার ও বন্যা মোকাবিলায় ১২টি সরকারি সংস্থার তিন হাজার ৫০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন।
হেবেই প্রদেশের চেংদে শহরেও বন্যার পানিতে বহু গাড়ি ভেসে গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, অন্তত নয়টি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন আবাসিক এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্য চীনের আনহুই প্রদেশে অতিরিক্ত বৃষ্টির আশঙ্কায় ৬১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জলাধারের ওপর চাপ কমাতে আগাম পানি ছাড়া হচ্ছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র ১৩ জুলাই টাইফুন বাভির জন্য নীল সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনটি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তরমুখী হয়ে পরে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে শানডং প্রদেশ হয়ে হলুদ সাগরের দিকে সরে যাবে।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় সম্পদও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ড্রাগন বোট দিয়েও বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটি ড্রাগন বোট দল ১২ মিটার দীর্ঘ নৌকা ব্যবহার করে ২০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ দিন বয়সী একটি নবজাতক, একজন বৃদ্ধ এবং গাছে আশ্রয় নেওয়া এক শিশুও রয়েছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবল স্রোত, পানির নিচে থাকা ধ্বংসাবশেষ এবং ধারালো বস্তুর কারণে অভিযান পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় পানির গভীরতা প্রায় ৮ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এদিকে পানি কমতে শুরু করা কিছু এলাকায় বাসিন্দারা ঘরে ফিরে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছেন। অনেক বাড়িঘর, কৃষিজমি, যানবাহন ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চাহিদাও বেড়ে গেছে।