বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) টোকিওতে স্বাক্ষরিত হবে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় প্রথমবারের মতো কোনো বড় ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে এ চুক্তিতে সই করবে বাংলাদেশ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের আলোচক দলের সদস্যরা টোকিওর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদ এই ইপিএ অনুমোদন দেয়। এলডিসি মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর (২০২৬ সালের নভেম্বরে) অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধার কাঠামো নির্ধারণে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য—যা মোট রপ্তানির প্রায় ৯৭ শতাংশ—জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এর মধ্যে প্রধান পোশাকপণ্যও অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, বাংলাদেশ ১৮ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে।
পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি ইপিএতে সেবাখাতের বাণিজ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বাংলাদেশ ১২টি সেবাখাতের ৯৭টি উপখাত জাপানের জন্য উন্মুক্ত করবে এবং জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত খুলে দেবে। এর ফলে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এশীয় রপ্তানি বাজার। দেশটিতে বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার বড় অংশই পোশাকপণ্য। এছাড়া, জাপান ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে তারা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা প্রদান করবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়