বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি বাজারের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে এই চাপ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ভার সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। নবগঠিত কমিটি বিদ্যুতের দাম কতটা বাড়ানো প্রয়োজন, কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর প্রভাব কী হতে পারে—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে।
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আলোচনা শেষে বিদ্যুতের নতুন মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হতে পারে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করবে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে