
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সজীব ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ুমিছিল করেছেন এলাকাবাসী। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে লেবুবুনিয়া বাজারসংলগ্ন সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হেমায়েত উদ্দীন, তার ছেলে সাতুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজীব এবং পরিবারের আরও কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। এ সময় সামীম আকন, ছবি আক্তার, সানজিদা, নাছরিন ও হান্নান আকনসহ কয়েকজন নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
তাদের দাবি, হেমায়েত উদ্দীন ও তার তিন ছেলে—সজীব, বাবুল ও আলম এবং স্থানীয় এক ছাত্রলীগ কর্মী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।
মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি লেবুবুনিয়া বাজারে ডাবের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সজীব দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
তাদের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের দাবি, লেবুবুনিয়া বাজারে ছাত্রদল নেতা সজীবের বড় ভাই আলম এবং শামিম আকন উভয়েই ডাবের ব্যবসা করেন। গত ৬ জুলাই বাজারে ডাবের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আলম শামিম আকনের কেনা ডাব নিয়ে যান। পরে ডাব ফেরত আনতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
তবে সাতুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজীব এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ফিরোজ কামাল জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।