পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় রাজধানী Islamabad-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে প্রথম দিনের সরাসরি আলোচনা শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা চলমান উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এর আগে শনিবার বিকেলে পাকিস্তানের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল একটি সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান Asim Munir। যদিও এর আগে উভয় পক্ষের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা আলাদাভাবে বা পরোক্ষভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
ইসলামাবাদ থেকে BBC Persian-এর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, যদি এই সরাসরি বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, এর আগে কখনোই দুই দেশের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের উপস্থিতিতে এভাবে সরাসরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেনি।
এদিকে আলোচনা চলাকালীন সময়েই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে। Iran-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei জানিয়েছেন, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ Fujairah Port থেকে Strait of Hormuz-এর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তবে সেটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিবিড় নজরদারির আওতায় আসে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের ভিন্ন বার্তাও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, সংঘাতে ইরান ইতোমধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার এই মন্তব্য আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
এ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত ইসলামাবাদে অবস্থানরত ইরানি আলোচক দলকে জানানো হয়। একই সময়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক Barak Ravid মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা Tasnim News Agency। সংস্থাটি এক অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার খবর সঠিক নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে সামরিক গতিবিধি ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। ফলে ইসলামাবাদের এই আলোচনা কতটা কার্যকর সমাধান আনতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
তবে এটুকু স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই সংলাপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর রয়েছে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে কী ধরনের অগ্রগতি আসে এবং তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলে।