রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে আগের মতো সহজে পার পাওয়ার সুযোগ কমে এসেছে। কারণ, মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও এখন নজরদারিতে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছে, যা যাচাই-বাছাই শেষে দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল মামলা।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে Dhaka Metropolitan Police (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের পাশাপাশি বসানো হয়েছে এআই-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং চালু করা হয়েছে ই-প্রসিকিউশন বা ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থা।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ১০ মে পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক থেকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের আড়াই হাজারের বেশি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে এসব ফুটেজ যাচাই করছে ট্রাফিক পুলিশের টেকনিক্যাল টিম। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছে মামলা ও নোটিশ পাঠানো হবে।

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে Shahbagh, Banglamotor, Karwan Bazar, Bijoy Sarani, Rampura, Gabtoli এবং Kakrail–সহ বিভিন্ন এলাকা।
এসব ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন ভঙ্গ, উল্টো পথে চলাচল, জেব্রা ক্রসিং দখল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং এবং অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহারের মতো অপরাধ শনাক্ত করতে সক্ষম।
রাজধানীর Karwan Bazar মোড়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, সিগন্যাল পরিবর্তনের সময় অনেক চালক আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হচ্ছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা।
কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সবদুল বলেন, আগে আইন ভঙ্গকারী গাড়ি থামিয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে সড়কে যানজট তৈরি হতো। এখন ক্যামেরার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ হওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেশি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
একই ধরনের মন্তব্য করেন ট্রাফিক সার্জেন্ট সুজয়। তিনি জানান, আগে কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়ার কারণে সময় বেশি লাগত এবং রাস্তার মাঝেই যানজট তৈরি হতো। এখন প্রমাণভিত্তিক ডিজিটাল মামলা দেওয়া সহজ হচ্ছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, আগে সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু হলেও গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট বাড়ত। সেই সমস্যা কমাতেই এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি।
এসব ক্যামেরায় ‘রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট-২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের মোবাইলে এসএমএস এবং ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হবে।

তবে নতুন এই ব্যবস্থায় কিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছে ডিএমপি। অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত থাকায় সেগুলো শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) Md. Anisur Rahman বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজারের বেশি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করছে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট (টিটিইউ)। আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই একটি গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে যাতে নম্বর প্লেট ছাড়া বা অস্পষ্ট নম্বর প্লেটযুক্ত যানবাহন সড়কে চলাচল না করে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়