
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় দেশে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়তি ব্যয়ে নতুন চালান আনতে আমদানিকারকদের একটি অংশ অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে খুচরা বাজারে বর্তমানে সেটি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ভোক্তাকে প্রতি সিলিন্ডারে ৫৬৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবেশকদের কাছে চাহিদাপত্র দিয়েও আগের তুলনায় কম পরিমাণ এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে। আগে ৫০০ সিলিন্ডারের চাহিদা দিলে পুরোটা সরবরাহ করা হলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৫০টি। পাশাপাশি সরবরাহ পেতে সাত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আমদানিকারকদের দাবি, এলপিজি পরিবহনে জাহাজ ভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে টনপ্রতি এ খরচ প্রায় ৩০০ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ সেপ্টেম্বরের জন্য বিইআরসি এ খাতে ১৬০ ডলার নির্ধারণ করেছে। আমদানিকারকদের ভাষ্য, গত মাসে এ খরচ ছিল ১২০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিইআরসি নির্ধারিত প্রিমিয়ামের চেয়ে বেশি খরচ করে এলপিজি আমদানি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি ব্যয় বিক্রয়মূল্যে সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে বেশি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রি করলে লোকসানের আশঙ্কায় কেউ কেউ নতুন চালান আনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
গত দুই মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার খুচরা বাজারে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম বেড়ে প্রায় ২ হাজার ১৫০ টাকা হয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক আবাসিক গ্রাহক রান্নার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভর করছেন। ফলে চাহিদাও বাড়ছে।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা শারমিন মুস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ২ হাজার ১৫০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। এর আগে গত দুই মাসে পরপর দুইবার ১ হাজার ৮০০ টাকা করে দিয়ে সিলিন্ডার কিনেছিলেন।
তবে দেশে এলপিজির সরবরাহে সংকটের কথা মানতে নারাজ বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, দেশে প্রতি মাসে সাধারণত ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি আসে। আগস্টে এসেছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন। তাই সরবরাহ সংকটের কারণ দেখছেন না তিনি।
প্রিমিয়াম বেড়ে ৩০০ ডলারে পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাড়তি চাহিদার কারণে এ ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সৌদি আরব থেকে জাপান পর্যন্ত জাহাজ ভাড়া বেড়েছে—এমন তথ্য থাকলেও তা এতটা বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরী বলেন, দেশে এলপিজির চাহিদা বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি দামে এলপিজি আমদানি করতে হচ্ছে। বেশি দামে পণ্য এনে কম দামে লোকসানে বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে বিশ্ববাজারের পরিস্থিতিতে সরবরাহের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়েছে।