চট্টগ্রাম মহানগরে সামান্য বৃষ্টিতেই আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, এতে নগরজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতের বৃষ্টি এবং সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালের হালকা বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যায়।
সোমবার সকাল থেকে চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর ও আগ্রাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর সড়কে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও পানি না নামায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। এতে অফিসগামী মানুষ, চালক ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সরেজমিনে প্রবর্তক মোড় এলাকায় দেখা যায়, বেলা ১২টার পরও সড়কে পানি জমে রয়েছে। জমে থাকা পানিতে কয়েকটি যানবাহন আটকে পড়ে। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পানিতে বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। একইভাবে একটি প্রাইভেটকারও পানির মধ্যে আটকে পড়ে, ফলে অন্যান্য যানবাহনকে তা পাশ কাটিয়ে চলাচল করতে হয়।
আটকে পড়া অটোরিকশাচালক মোরশেদ আলম জানান, পানিতে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি সড়কের একটি গর্তে পড়ে গাড়িটি কাত হয়ে পড়ে, পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সেটি উদ্ধার করা হয়।
পথচারীরা অভিযোগ করেন, অল্প বৃষ্টিতেই নগরের সড়কে পানি জমে যাওয়া এখন নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে কিছু রিকশাচালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবেই এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। গত ১৯ এপ্রিল জামাল খান লিচুবাগান এলাকা থেকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রতিদিন এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়