1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

আইসিজেতে শুরু হচ্ছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ শুনানি

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

অবশেষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) সোমবার (১২ জানুয়ারি) থেকে এই শুনানি শুরু হবে।

এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই প্রথম কোনো গণহত্যা সংক্রান্ত মামলা, যা আইসিজেতে পূর্ণাঙ্গ শুনানির পর্যায়ে পৌঁছাল। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এই আইনি প্রক্রিয়া, যেখানে উভয় পক্ষ তাদের যুক্তি ও প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করবে।

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া এই মামলাটি দায়ের করে। মামলাটি কেবল মিয়ানমারের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষা ও গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনী তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। এই অভিযানের ফলে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বর্ণনায় উঠে আসে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ এবং শত শত গ্রামে অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ চিত্র।

জাতিসংঘের একটি বিশেষ অনুসন্ধানী দল (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন) ২০১৯ সালে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওই অভিযান ছিল স্পষ্টভাবে ‘গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ গাম্বিয়া, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর পক্ষে এই মামলার নেতৃত্ব দিচ্ছে। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে তারা মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। গাম্বিয়ার দাবি, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের একটি জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্মূল করার চেষ্টা করেছে।

এর আগে, ২০২০ সালে আইসিজে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে, যেখানে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণহত্যার সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্ট না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। চলমান শুনানিটি মামলার মূল অভিযোগগুলো প্রমাণের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই শুনানিতে প্রথমবারের মতো সরাসরি ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতে ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ সরাসরি শোনার সুযোগ খুবই বিরল হওয়ায় এটিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে এসব অধিবেশন গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের জন্য বন্ধ থাকবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রধান নিকোলাস কোউমজিয়ান বলেন,
‘এই মামলাটি গণহত্যার সংজ্ঞা এবং কীভাবে তা প্রমাণ করা যায়—সে বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে।’

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা চলমান মামলার ওপরও আইনি ও নৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!