Alikadam Upazila-এ পাহাড় কেটে, বনজ গাছ পুড়িয়ে এবং শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রেখে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারির বাইরে এসব পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলীকদম-থানচি সড়কের পাশে উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে একাধিক ইটভাটা। সেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের দিয়ে কাঁচা ইট তৈরি, বহন ও চুল্লির কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাটার আশপাশে জ্বালানি হিসেবে বিপুল পরিমাণ বনজ গাছ মজুদ রাখা হয়েছে এবং সেগুলো পুড়িয়ে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ইটভাটায় কাজ করা কয়েকজন শিশু জানায়, দারিদ্র্যের কারণে তারা পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে। তারা জানিয়েছে, আগে তারা স্কুলে পড়ত, কিন্তু এখন পরিবারের ভরণপোষণের কারণে ইটভাটায় কাজ করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘ইউবিএম’ ও ‘এফবিএম’ নামে দুটি ইটভাটা এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, এসব ভাটা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই চলছে এবং মালিকদের নির্দেশেই পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় পরিচালিত সব ইটভাটাই অবৈধ। তারা আরও বলেন, পাহাড় কাটা, বনজ গাছ পোড়ানো এবং শিশুশ্রম—সবই আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এ বিষয়ে আগেও অভিযান চালানো হয়েছে।
Department of Environment Bangladesh জানিয়েছে, এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে শিগগিরই নতুন করে অভিযান চালানো হবে।
অন্যদিকে বন বিভাগ জানিয়েছে, কাঠ সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনিয়ম রয়েছে এবং খাস জমি থেকে গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসনও বলছে, এসব ইটভাটার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই এবং শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়