যান্ত্রিক বট থেকে ওয়েবসাইট সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত পরিচিত ক্যাপচা প্রযুক্তিকে এখন নতুন ধরনের সাইবার আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হ্যাকাররা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুয়া ক্যাপচা ফাঁদে ফেলে ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে কিছু নামি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করা হচ্ছে। এরপর সেই সাইটে প্রবেশ করলেই ব্যবহারকারীর সামনে একটি ভুয়া ক্যাপচা বা ব্রাউজার ভেরিফিকেশন উইন্ডো দেখানো হয়। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয় একটি ‘পাওয়ারশেল কমান্ড’ কপি করে কম্পিউটারে চালানোর জন্য। সাধারণ ব্যবহারকারী এটিকে নিরাপত্তা যাচাই ভেবে অনুসরণ করলেই কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।
এর ফলে ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ভিডার স্টিলার’ নামের একটি তথ্য চুরি করা ম্যালওয়্যার। এটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।
‘ভিডার স্টিলার’ একটি তথ্য চুরির ম্যালওয়্যার, যা কম্পিউটারে ঢোকার পর ব্রাউজার ও সিস্টেম থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে। এর লক্ষ্য থাকে—
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যালওয়্যারটির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি নিজেকে লুকিয়ে রাখার সক্ষমতা। সংক্রমণের পর এটি নিজের ফাইল মুছে ফেলে এবং সরাসরি কম্পিউটারের মেমোরিতে সক্রিয় থাকে, ফলে সাধারণ অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভুয়া ক্যাপচার মাধ্যমে এই ধরনের আক্রমণ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর ব্যবহার বেড়েছে। ২০১৮ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়া ‘ভিডার স্টিলার’ বর্তমানে ডার্ক ওয়েবে সহজলভ্য হওয়ায় হ্যাকারদের কাছে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে সতর্ক করেছে অস্ট্রেলিয়ান সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়