রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। সোমবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকার মাঠ প্লাবিত হওয়ায় আধপাকা ও পাকা ধান, ভুট্টা, পাট ও শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এতে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর রোববার শুরু হওয়া বৃষ্টি মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও কৃষিখাতে এর প্রভাব নেতিবাচক হয়ে দেখা দিয়েছে।
সোমবার ভোর থেকে রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়, যা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে এবং নগরজীবনে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে দিনের মধ্যে রোদ-মেঘের লুকোচুরি অব্যাহত থাকে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের চারটি বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় এবং উজানে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন দিনও এসব এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বুধবার নাগাদ এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে ভোগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং মূলত তিন দিনের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
মঙ্গলবার ও বুধবারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ সময় সারাদেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও বুধবার থেকে সামান্য কমতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ৭৮ মিলিমিটার। একই সময়ে কক্সবাজার ও খেপুপাড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ময়মনসিংহে ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় জানানো হয়েছে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়