উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, আগামী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝড়ের প্রবণতা মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগ-এ অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতিভারি বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকা-তে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকলেও প্রতিদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কালবৈশাখী সংক্রান্ত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকা বিভাগ, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সিলেট বিভাগ-এর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এসব বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সময়ে নদী ও সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরতদের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সার্বিকভাবে, বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই জনসাধারণকে আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়