হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
ট্রাম্প জানান, বিভিন্ন দেশের জাহাজ আটকে পড়ার প্রেক্ষাপটে তাদের অনুরোধে এই অভিযান পরিচালিত হবে এবং এটি সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা। অভিযানে সহায়তার জন্য United States Central Command (সেন্টকম) প্রায় ১৫ হাজার সামরিক সদস্য, ১০০টিরও বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরান এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান Ebrahim Azizi এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেন, হরমুজ প্রণালী বা পারস্য উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ কোনো ‘বিভ্রান্তিকর বার্তা’ দিয়ে নির্ধারিত হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর বরাতে দেশটির গণমাধ্যম দাবি করেছে, জাস্ক বন্দরের কাছে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, তাদের কোনো জাহাজ হামলার শিকার হয়নি।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, মার্কিন জাহাজে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হওয়ায় এই অঞ্চলের যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়