1. adm3ijmpg@example.com : adm3ijmpg :
  2. adm53gqu5@example.com : adm53gqu5 :
  3. admg4o2lv@example.com : admg4o2lv :
  4. admiztuem@example.com : admiztuem :
  5. dsdc.mostafiz@gmail.com : mostafiz rahman : mostafiz rahman
  6. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  7. admin@wordpress.com : root :
  8. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

মোটরসাইকেলে শুল্ক বাড়ানোর ভাবনা: কর দিচ্ছেন রাইডাররা, কিন্তু সুবিধা কতটুকু?

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

আগামী অর্থবছর থেকে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন শুল্ক বা কর আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির অন্যতম খাত হিসেবে মোটরসাইকেলকে বিবেচনায় আনার বিষয়টি নতুন নয়। দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত যাতায়াত, কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এবং অনলাইনভিত্তিক সেবায় এই যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোটরসাইকেল খাতকে আরও করের আওতায় আনার চিন্তাকে সরকার অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক মনে করতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে—যেসব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী নিবন্ধন ফি, ভ্যাট, কাস্টমস ডিউটি, রোড ট্যাক্স, লাইসেন্স ও অন্যান্য সরকারি ফি নিয়মিত পরিশোধ করছেন, তারা কি দেশের সড়ক সুবিধা ব্যবহারে সমান অধিকার পাচ্ছেন?

বিশেষ করে বিভিন্ন উড়ালসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন রাইডাররা। তাদের দাবি, কর আদায়ে সরকার যেমন কঠোর, তেমনি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

দেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যানজটপূর্ণ নগরজীবনে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী পরিবহন হিসেবে এটি অনেকের কাছে কার্যকর সমাধান হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ডেলিভারি সেবা প্রদানকারী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর জন্য মোটরসাইকেল একটি অপরিহার্য বাহন। অনেকে মনে করেন, গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘ যানজটের বাস্তবতায় মোটরসাইকেল শুধু বিলাস নয়, বরং প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থার অংশ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, মোটরসাইকেল মালিকরা বিভিন্ন কর ও ফি প্রদান করলেও সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে বহু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উড়ালসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বা বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে যাতায়াত সময় ও খরচ বাড়ে বলে অভিযোগ ব্যবহারকারীদের। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়, যা সময় ও জ্বালানি উভয়ই বাড়িয়ে দেয়।

মোটরসাইকেল রাইডারদের প্রশ্ন—যদি সরকার তাদের কাছ থেকে অন্যান্য যানবাহনের মতোই রাজস্ব আদায় করে, তাহলে কেন অবকাঠামোগত সুবিধা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকবে? তাদের মতে, কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির একটি যৌক্তিক সম্পর্ক থাকা উচিত। একজন মোটরসাইকেল মালিক যখন নিবন্ধন, লাইসেন্স নবায়ন, জ্বালানির ওপর আরোপিত করসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করেন, তখন তিনি রাষ্ট্রীয় সড়ক অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বৈষম্যহীন সুযোগ প্রত্যাশা করতেই পারেন।

তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একটি ভিন্ন যুক্তিও রয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, উড়ালসড়ক বা উচ্চগতির মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। উচ্চগতির যান চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোর কারণে অনেক সময় প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিশেষ করে দুর্ঘটনা কমানো ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সমালোচকদের বক্তব্য, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা সবসময় কার্যকর সমাধান নয়। বরং নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার দেওয়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট গতিসীমা, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক, বিশেষ লেন অথবা আলাদা টোল ব্যবস্থার মাধ্যমে মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অনেক দেশেই উচ্চগতির সড়কে নিরাপত্তা বিধি মেনে মোটরসাইকেল চলাচলের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়টিও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর প্রয়োজনে কর আরোপ করা হলেও তা যেন একতরফা বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। কারণ অতিরিক্ত কর বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যারা ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, মোটরসাইকেলকে পরিবহন নীতির অংশ হিসেবে আরও সুসংগঠিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা, অবকাঠামো ব্যবহার এবং রাজস্ব—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। শুধুমাত্র কর আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নিলে তা জনঅসন্তোষ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতিতে ব্যবহারকারীদের অধিকার ও বাস্তব চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের উচিত মোটরসাইকেল রাইডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করা। এতে একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে নিয়মিত করদাতা নাগরিক হিসেবে রাইডারদের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কর আরোপ বা বৃদ্ধি যদি অবশ্যম্ভাবী হয়, তবে সড়ক সুবিধা ব্যবহারে বৈষম্য কমানোর প্রশ্নও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, মোটরসাইকেলের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের আলোচনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূল প্রশ্ন একটাই—কর দেওয়া নাগরিক হিসেবে মোটরসাইকেল রাইডাররা কি দেশের অবকাঠামোগত সুবিধা ব্যবহারে সমান সুযোগ পাবেন, নাকি রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি বিধিনিষেধের বোঝাও বহন করতে হবে? সরকারের জন্য এখন চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব বৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধার মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করা, যাতে করদাতা মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা নিজেদের বঞ্চিত মনে না করেন।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!