আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর পেরিয়ে আসা ১৫টি এলএনজি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে, বাকি ৩টি এই সপ্তাহে পৌঁছাবে।
রোববার ‘সেভান’ নামের জাহাজ ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে নোঙর করবে। সোমবার ‘লুসাইল’ এবং বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামের আরও দুটি জাহাজের বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে। এই তিন জাহাজে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টনের বেশি এলএনজি রয়েছে। জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি পার করায় পাইপলাইনে থাকা এই জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে আর কোনো বাধা নেই।
ইকবাল হাসান মাহমুদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী, জানিয়েছেন, সরবরাহ সংকট এড়াতে সরকার খোলাবাজার থেকেও বেশি দামে দুটি জাহাজ এলএনজি কিনেছে। তিনি বলেন, তেলের ও গ্যাসের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, তবে সচেতন ও সাশ্রয়ী থাকা জরুরি। যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা জানা নেই।
জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি মো. নুরুল আলম বাহার, সিনিয়র ডিজিএম, ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেড, জানান, চলতি মাসে মোট ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা ছিল। এর মধ্যে ২টি এসেছে, ৪টি পথে আছে, এবং ৩টি হরমুজ প্রণালির ভেতরে থাকায় অনিশ্চয়তা রয়েছে। এছাড়া আফ্রিকার এঙ্গোলা থেকে ৫৮ হাজার টন এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ ২০ মার্চ বন্দরে পৌঁছাবে।
ব্লুমবার্গের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৬ মার্চ কাতারের এলএনজি রপ্তানি কমপ্লেক্স থেকে যাত্রা শুরু করা একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। ১৪ মার্চ এটি বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর করার কথা। হরমুজ প্রণালি সময়মতো অতিক্রম করতে না পারলে নির্ধারিত সময়ে চালান পৌঁছানো নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই রকম পরিস্থিতি ‘লিব্রেথা’ নামে আরেকটি জাহাজের ক্ষেত্রেও।
পেট্রোবাংলা জানায়, এ বছর মোট ১১৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাতার থেকে ৪০টি এবং ওমান থেকে ১৬টি কার্গো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়