দেশের বাজারে গরুর মাংসের উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং তুলনামূলক কম দামে মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানির অনুমতি চেয়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তবে সরকার জানিয়েছে, আপাতত গরুর মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁ রয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ২৫ হাজার। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে গরুর মাংসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে সীমিত পরিসরে আমদানির সুযোগ দিলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কিছুটা কমতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সে সময় ব্রাজিল বাংলাদেশে তুলনামূলক কম দামে গরুর মাংস রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশ্বের অন্যতম বড় মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ব্রাজিল বর্তমানে বিভিন্ন দেশে মাংস সরবরাহ করে থাকে।
তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী গরু উৎপাদন হচ্ছে। এ অবস্থায় মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন এবং পশু পালন খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।
সরকারের মতে, দেশের প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষা দেওয়া এখন বড় অগ্রাধিকার। তাই আমদানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একসময় ভারত থেকে গরু আমদানি কমে যাওয়ার পর স্থানীয় বাজারে মাংসের দাম বাড়তে শুরু করে। ভোক্তাদের একাংশের অভিযোগ, বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় দাম আরও বেড়েছে। যদিও কিছু বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিশেষ অনুমতিতে হিমায়িত মাংস আমদানি করে থাকে, তবে তা সাধারণ বাজারে বিক্রি হয় না।
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিদেশ থেকে মাংস আমদানির পরিবর্তে দেশীয় উৎপাদন খরচ কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে ভোক্তা ও খামারি—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়