
চলমান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে সহআয়োজক কানাডা। নাটকীয় লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে জেসি মার্শের শিষ্যরা। ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি আসে অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে স্টিভেন ইউস্টাকিওর পা থেকে।
লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ডিহাইড্রেশন ব্রেকের আগে ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল কানাডা। ২২তম মিনিটে ডেরেক কর্নেলিউসের কাছ থেকে হেডে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস সহজেই তা ধরে ফেলেন।
প্রথমার্ধের ৪৪তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পায় কানাডা। ময়জে বোমবিতোর হেডে গোল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবে গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্য ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দলকে রক্ষা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার অব্রে মদিবা। একই আক্রমণের ফিরতি শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন উইলিয়ামস।
বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় কানাডা। বল দখলের লড়াইয়ে লারিয়াকে ফাউল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় মুদাউয়ের বিরুদ্ধে। তবে রেফারি এবং পরে ভিএআর সেই আবেদন নাকচ করলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের খোঁজে একের পর এক আক্রমণ চালায় কানাডা। ৬৫তম মিনিটে জোনাথন ডেভিডের দুর্দান্ত শট পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন উইলিয়ামস। ফিরতি বল থেকেও গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার এমবোকাজি।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ৯১তম মিনিটে স্টিভেন ইউস্টাকিওর দুর্দান্ত গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে কানাডা শিবির। শেষ মুহূর্তে আর সমতায় ফিরতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিক কানাডা। অন্যদিকে, প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলতে এসে বিদায়ের হতাশা নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে।