
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সেনা হত্যার ঘটনায় তেহরানকে ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগকে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যতবারই ইরান কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের সেই হত্যার জন্য বহুগুণ মূল্য দিতে হবে।” তিনি আরও জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন-এর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা এলাকায় একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া চলমান সংঘাতে প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডেলাওয়্যারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্প পেন্টাগনকে কী ধরনের সামরিক নির্দেশনা দিয়েছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার মোতায়েন শুরু করেছিল।
এদিকে মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো কেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটার আগেই আমাদের সৈন্যদের সরিয়ে নিতে হবে। উত্তেজনা বৃদ্ধির এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে হামলার নির্দেশ দেন।
রয়টার্সের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর আগে ইরানের এসব সক্ষমতা দুর্বল করা প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স