মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে দেশটির ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ-এর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা, শ্রমিক অধিকার এবং বাংলাদেশ–মালদ্বীপ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল তাদের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে তাদের ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন এবং নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যুর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরিত হবে। নতুন আগতদের জন্য এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলা এবং শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি জোর দেন।
এ সময় ডলার সংকট নিরসনে নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে। প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে হাইকমিশনার বাংলাদেশ হাইকমিশনে প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগ ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলারের কাছে হস্তান্তর করেন।
ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বস্ত করে বলেন, যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের লেবার রিলেশন অথরিটি (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেন। উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলেও জানানো হয়।
সূত্র: বাসস
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়