
‘মাদক ছাড়ো, খেলাধুলা ধরো’ এবং ‘মাদকমুক্ত দেশ গড়ি, তরুণ সমাজ গড়ে তুলি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গোডাউন বাজার নাইট মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। টুর্নামেন্ট থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ক্যান্সার আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসায় সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার ২ নম্বর মালিবাড়ী ইউনিয়নের বারবলদিয়া গোডাউন বাজার সংলগ্ন মাঠে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলাকে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে জমে ওঠে রাতের ফুটবল ম্যাচ।
টুর্নামেন্টের আয়োজন করে গোডাউন বাজার স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারবলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন খিদির শরীফ আল-ওয়াহেদী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার বর্মন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাদক থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সামাজিক দায়িত্ব। এ আয়োজনের মাধ্যমে তরুণরা মানবিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে রতন কুমার বর্মন বলেন, শুধু বিনোদন নয়, মানুষের কল্যাণেও খেলাধুলাকে কাজে লাগানো যায়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এ আয়োজন প্রমাণ করে, তরুণ প্রজন্ম চাইলে সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত এক রোগীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
খেলাধুলার পাশাপাশি মানবিক সহায়তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।