ভারতের West Bengal–এর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে Bharatiya Janata Party (বিজেপি)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনী সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে Rashtriya Swayamsevak Sangh (আরএসএস) এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো।
বিশ্লেষকদের দাবি, এবারের নির্বাচনে শুধু উন্নয়ন বা সুশাসনের প্রশ্ন নয়, বরং পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি ও হিন্দুত্বের বার্তা বড় প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচনের আগেই আরএসএস ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালায়। তারা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে উদ্বেগের বিষয় সামনে আনে।
প্রচার কার্যক্রমে প্রতিবেশী Bangladesh–এর হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতির উদাহরণও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের স্মৃতি উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গকে বাঙালি হিন্দুদের গুরুত্বপূর্ণ আবাসভূমি হিসেবে উপস্থাপন করা হয় বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মত দিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের শাখা সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার, যা বর্তমানে সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সংগঠনটির স্বয়ংসেবকরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট না চাইলেও ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থ’ ও ‘হিন্দুত্ব’কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee–এর সরকারের বিরুদ্ধে থাকা জনঅসন্তোষকে পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক আবহে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে সঙ্ঘ পরিবার।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল হিসেবে তুলে ধরলেও এবারের নির্বাচনে সেই প্রচারণা ততটা কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। Presidency University–এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক Jad Mahmud–এর মতে, দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রচারের মাধ্যমে আরএসএস বাঙালি সমাজের একাংশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আরএসএসের সহযোগী সংগঠন ‘সীমান্ত চেতনা মঞ্চ’ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে এনে সীমান্ত অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী মনোভাব জোরদারের চেষ্টা করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari এই ফলাফলকে “হিন্দুত্বের জয়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিজেপি সরকার গঠনের পর পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সাংগঠনিক ও সামাজিক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: BBC Bangla
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়