
জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত, নামাজ আদায়, তওবা এবং মানুষের নৈতিক জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের বিভিন্ন মসজিদের খতিবরা। শুক্রবারের জুমার বয়ান ও খুতবার পূর্ববর্তী আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন।
ঢাকার শেওড়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি সিফাতুল্লাহ রহমানি বলেন, জুমার দিন অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিনকে ‘সাইয়েদুল আইয়াম’ তথা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের মর্যাদা তুলে ধরেছেন। হাদিসে বলা হয়েছে, সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বশ্রেষ্ঠ। এ দিনেই হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং পৃথিবীতে পাঠানো হয়। কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে। (মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৮৫৪)
মুফতি সিফাতুল্লাহ রহমানি আরও বলেন, জুমার দিন মুসলিমদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এদিন মসজিদে যাওয়ার আগে পবিত্রতা অর্জন, সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার এবং মিসওয়াক করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা বলেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ১০৯৮)
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। (মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৮৫২)
এ সময় জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় নিয়ে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিসের কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের সূরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, মানুষের ব্যাপক পাপাচার ও আল্লাহর হুকুম অমান্য করার কারণে বিভিন্ন বিপদাপদ ও দুর্যোগের শাস্তি আসতে পারে।
তিনি বলেন, জুলুম-অত্যাচার, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ব্যবহার, আমানতের খিয়ানত, যাকাত আদায় না করা, মা-বাবার অবাধ্যতা, মসজিদে অশোভন আচরণ, মদ্যপান এবং বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষকে বিরত থাকতে হবে।
মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী পবিত্র কোরআনের সূরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থল ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে মানুষকে তাদের কিছু কর্মের শাস্তি আস্বাদন করানো হয়, যাতে তারা সঠিক পথে ফিরে আসে।
তিনি সবাইকে পাপাচার থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিপদাপদ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, দিনাজপুর গোর-এ শহীদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, চারটি গুরুত্বপূর্ণ আমল থেকে বিরত থাকার কারণে মানুষ জাহান্নামের শাস্তির মুখোমুখি হবে।
তিনি বলেন, প্রথমত নামাজ আদায় না করা, দ্বিতীয়ত অভাবগ্রস্ত ও ফকির-মিসকিনকে খাদ্য না দেওয়া, তৃতীয়ত ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তিকর সমালোচনায় অংশ নেওয়া এবং চতুর্থত কিয়ামত বা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করা।
এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা মুদ্দাসসিরের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের জিজ্ঞেস করবেন, কী কারণে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। জবাবে তারা বলবে, তারা নামাজ আদায় করত না, অভাবগ্রস্তদের খাদ্য দিত না, সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে সমালোচনায় লিপ্ত থাকত এবং প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করত।
খতিবরা মুসলমানদের নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায়, পাপাচার থেকে বিরত থাকা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করার আহ্বান জানান।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে সৎকর্ম করার এবং নিয়মিত নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।