1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক—জামায়াত প্রসঙ্গে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান

বক্তব্যের শুরুতেই ফজলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, দেশের হাওরাঞ্চল রক্ষায় ৩৫টি জেলা নিয়ে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন, যাতে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও পরিবেশগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়।

তবে তার বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গে এসে তিনি জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে না এবং শহীদ পরিবারের কেউ এমন রাজনীতিতে যুক্ত হলে তা ‘দ্বিগুণ অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, “এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি বা জুঁই ফুলই ফোটে না, এখানে রক্ত গোলাপ ও রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিলের ডাক নেই, এ দেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও আছে।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধারাই জিতবে, রাজাকাররা কখনো এ দেশে জয়ী হতে পারবে না।” এ সময় তিনি বলেন, অনেকেই তাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে সম্বোধন করেন, যদিও তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করেন।

এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কেউ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য দাবি করে জামায়াতের রাজনীতি করলে তা তার দৃষ্টিতে ‘দ্বিগুণ অপরাধ’। এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এর পর স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাকে আঘাত করেছেন এবং অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।

শফিকুর রহমান বলেন, “আমি কোন দলের রাজনীতি করব বা কোন আদর্শ অনুসরণ করব, সেটি আমার নাগরিক অধিকার। এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাষ্ট্র বা সংবিধান কাউকে দেয়নি।” তিনি আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং আদর্শ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, যা তিনি গুরুতর অপরাধ হিসেবে মনে করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা স্পিকারের কাছে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের মন্তব্য পরিহারের আহ্বানও জানান।

এদিকে সংসদের ভেতরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরবর্তীতে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!