1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র তালিকা প্রকাশ, ৬৭ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে এসবি

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ২০ হাজার ৪৩৭টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)।

সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ইসির অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং নারীদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২ কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি। অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ১৪টি।

তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য একটি ও ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এসবি জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলোর ভৌত অবকাঠামো, থানার দূরত্ব, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অবস্থান, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত অঞ্চলের ভিত্তিতে এই ঝুঁকির শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসবি কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ বাড়তে পারে; এ কারণে সিআইডিকে এসব নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসবি’র তথ্যের ভিত্তিতেই তারা কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তবে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দের পরিবর্তে তারা ‘গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র’ শব্দটি ব্যবহার করেন। আগের নির্বাচনের মতো এবারও এসবি’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তখন অতিরিক্ত তিনজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারও সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ফোর্স মোতায়েন করা হবে।

ইসির সাম্প্রতিক বৈঠকে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রধান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ২২টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—যার মধ্যে রয়েছে তফসিল ঘোষণার পর চেকপোস্ট বসানো, সীমান্ত ও সমুদ্রপথে নজরদারি জোরদার, দেশকে রেড-ইয়েলো-গ্রিন তিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, এবং অপতৎপরতা দমনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ।

এছাড়া গুজব প্রতিরোধে সাইবার ইউনিট সক্রিয় রাখা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি, নারীদের সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, সংখ্যালঘু ও জঙ্গি ইস্যু মোকাবেলা, ভয়েস ক্লোন করে চরিত্র হনন প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার, এবং বৈধ অস্ত্র সাময়িকভাবে জমা নেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

ইসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) অন্তত ২০ জন করে সদস্য মোতায়েন রাখবে। কক্সবাজারে প্রতি বিওপিতে থাকবে ২৫ জন করে সদস্য। নির্বাচনে ৪৯২টি উপজেলায় ১১ হাজার ৬০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি রয়েছে।

সেনাবাহিনী ভোটকালে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও স্থাপনায় দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সেনা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আর্মি এভিয়েশন ইউনিট এবং কমান্ডো বাহিনীও প্রস্তুত থাকবে।

র‌্যাব ভ্রাম্যমাণ টিম হিসেবে কাজ করবে; তাদের ৫,৫০০ সদস্য, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌবাহিনীর ৩ হাজার এবং বিমানবাহিনীর আরও সদস্য পরিবহন ও সরঞ্জাম সহায়তায় নিয়োজিত থাকবে। কোস্টগার্ড নয়টি জেলার ১৭টি উপজেলায় তিন হাজার সদস্য মোতায়েন করবে।

সবশেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশের অন্তত একটি করে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যাতে যেকোনো অপতৎপরতা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা যায়।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!