ইরানে ইসরায়েলের হামলার পেছনে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, হামলাটি ইসরায়েলের একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হয়েছিল।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েল প্রথমে হামলা চালায়। সেই হামলা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমি পুরোপুরি এই হামলার দায়িত্বে ছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “হামলার প্রথম দিনটি ইসরায়েলের জন্য ছিল অসাধারণ। কারণ, সেদিনের হামলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।”
গত ১৩ জুন বিনা উসকানিতে ইরানে বিধ্বংসী হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে বহু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণুবিজ্ঞানী ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জবাবে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের দিকে পাল্টা আঘাত হানে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। তবে যুদ্ধের প্রথম দিকের দিনগুলোতে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, এটি ইসরায়েলের একক সিদ্ধান্ত ছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সতর্ক করেছিল, যেন তারা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা বা স্বার্থের ওপর কোনো প্রতিশোধমূলক আক্রমণ না চালায়।
তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, “আজ রাতে ইসরায়েল এককভাবে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এতে কোনোভাবে জড়িত নই। আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
পরবর্তীতে ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়।
এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার যুদ্ধের কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করেছে—যা তার প্রশাসনের বড় কৌশলগত সাফল্য।
তবে বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুরু থেকেই তিনিই এই যুদ্ধের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়